সাম্প্রতিক আপডেটঃ
Home > সাহাবায়ে কিরাম > হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা’র কতিপয় গুনাবলি এবং ফযিলত

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা’র কতিপয় গুনাবলি এবং ফযিলত

আল্লামা আতাউর রহমান নূরী

বঙ্গানুবাদঃ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন

ইলমে ফিক্‌হ এবং ইলমে হাদীস শাস্ত্রের মধ্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামা’র পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র মর্যাদা অপরিসীম। তিনি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা’র নিকট থেকে ২২১০(দু’হাজার দুইশত দশ)টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাকৃত হাদীস সমূহের মধ্যে ১৭৪টি এমন হাদীস রয়েছে- যা বুখারী এবং মুসলিম শরীফে যৌথভাবে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়াও ৫৪টি হাদীস “সহীহ বুখারী শরীফে” স্বতন্ত্রভাবে রয়েছে এবং ৬৮ টি হাদীস- যা কিনা ইমাম মুসলিম তাঁর নিজ কিতাব “সহীহ মুসলিম শরীফে” উল্লেখ করেছেন। এগুলো ব্যতিত তাঁর বর্ণনাকৃত বাকী হাদীস সমূহ অন্যান্য হাদীসের গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

চিকিৎসা শাস্ত্রঃ

চিকিৎসা শাস্ত্র এবং রোগীর রোগ নিরাময়ের বিষয়ে তিনি খুবই পারদর্শী ছিলেন। হযরত উরওয়াহ বিন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি একদা বিস্ময়ের সাথে হযরত বিবি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র নিকট আরয করলাম, হে আম্মাজান আয়েশা ! আমার এই বিষয়ের উপর খুবই বিস্মিত যে, আপনার এই চিকিৎসা শাস্ত্রীয় জ্ঞান এবং রোগীর রোগ নিরাময়ে পারদর্শিতা কোথা থেকে এবং কিভাবে আসলো ? তাঁর একথা শুনে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামা দুনিয়াতে তাঁর প্রকাশ্য জিন্দেগীর শেষাংশে প্রায়ই পীড়িত হয়ে পড়তেন, ঐ সময়ে আরব-অনারবের চিকিৎসকগণ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামা’র জন্য বিভিন্ন ঔষধ দিতেন; এবং আমি ঐসব ঔষধ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে সেবন করাতাম। এক পর্যায়ে এ খিদমাতের দ্বারাই চিকিৎসা শাস্ত্রীয় জ্ঞান আমার অর্জিত হয়ে যায়।

ইবাদাত এবং দানশীলতাঃ

ইবাদাতের দিক থেকে তাঁর মর্তবা অনেক মহান। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র ভাতিজা হযরত কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বর্ণনা করেন যে, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রতিদিন নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং অধিকাংশ সময়ই রোযা রাখতেন। দানশীলতা অর্থাৎ দান-সদকা ও পরোপকারের দিক থেকেও তিনি ছিলেন সকল উম্মাহাতুল মু’মিনদের চেয়ে সর্বাগ্রে । হযরত উম্মে দুররাহ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বর্ণনা করেন যে, আমি একদা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র নিকট ছিলাম। ঐ সময়ে কোন এক স্থান হতে এক লাখ দিরহাম আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র নিকট আসলো। তিনি তৎক্ষনাৎ-ই সেসব দিরহাম লোকদেরকে বন্টন করে দিলেন, এমনকি তিনি একটি দিরহামও নিজের ঘরের জন্য রাখলেন না। সেদিন তিনি রোযাদার ছিলেন।

আরবী কাব্যঃ

হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা’র ভাতিজা হযরত উরওয়াহ বিন যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বর্ণনা করেন, ইলমে ফিক্‌হ-ইলমে হাদীস ছাড়াও আমি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র চেয়ে আরবী কাব্যে বেশি পারদর্শী কাউকে পাই নাই। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন প্রায় সময়ই কোন না কোন কবিতা পড়তেন; যা কিনা পরবর্তীতে প্রসিদ্ধ হয়ে যেত।

বেসাল মুবারকঃ

১৮ ই রমযানুল মুবারক, ৫৭ বা ৫৮ হিজরী মোতাবেক মঙ্গলবার রাতে মদিনায়ে মুনাওয়ারা-তে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার বেসাল মুবারক(ইন্তিকাল) হয়। হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর জানাযা পড়ান এবং তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী রাতের বেলায় তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে অন্যান্য উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের কবর শরীফের সাথে সমাধিস্থ করেন।

প্রবন্ধ সূত্রঃ www.nafseislam.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *