সাম্প্রতিক আপডেটঃ
Home > হজ্ব এবং কুরবানি > হজ্ব ইসলামের একটি ফরয বিধান

হজ্ব ইসলামের একটি ফরয বিধান

মুহাম্মদ গোলাম হুসাইন

সূরা আলে ইমরান-এ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন যে,

وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ البَيْتِ مَنِ َاسْتَطَاعَ إِليْهِ سَبِيلاً وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ العَالَمِينَ

অর্থাৎ, “এবং আল্লাহরই উদ্দেশ্যে ঐ সকল ব্যক্তিগণের উপর হজ্ব ফরজ, যারা কিনা সেথায় যাওয়ার শক্তি-সামর্থ্য রাখে। আর যে ব্যক্তি এই বিধানকে অস্বীকার করবে(তার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার কোন পরওয়া নেই)। আল্লাহ তায়ালা তো সমগ্র বিশ্ববাসী হতে ধনী (অর্থাৎ কারো না মানার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার কোন কাজ বাধাগ্রস্থ হয় না, বরং না মানার দ্বারা স্বয়ং ঐ ব্যক্তিরই ক্ষতি সাধন হয়)” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৯৭]

কুরআনে কারীম দ্বারা হজ্ব “ফরয” হওয়ার প্রমাণ

তাফসীরাতে আহমদিয়াতে বর্ণিত আছে যে, উপরোক্ত আয়াত দ্বারা হজ্ব “ফরয” হওয়াকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তা শর্ত সাপেক্ষে, বরং হজ্ব ঐ ব্যক্তির উপর ফরয; যিনি কিনা কাবাতুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখেন।

 

হেয়াদা শরীফের মধ্যে আরো লিখিত আছে যে, হজ্ব “ফারিদ্বায়ে মুহকামাহ” (অর্থাৎ যেই ফরয কুরআনের আহকাম সম্বলিত আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত) এর অন্তর্ভূক্ত; যার ফরয হওয়া কিতাবুল্লাহ(কুরআন মাজীদ) এর উপরোক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত।

 

হজ্ব জীবনে একবার ফরয

হেদায়াতে এসেছে যে, “হজ্ব” জীবনে শুধুমাত্র একবার ফরয; আর তা এজন্য যে, হজ্ব ফরয হওয়ার কারণ হচ্ছে বায়তুল্লাহ; এবং সেটি শুধুমাত্র একটি। ইলমে উসূলের একটি পদ্ধতি হচ্ছে যে, “যখন পর্যন্ত সবব(কারণ) এর পূনরাবৃত্তি হবে না ততক্ষন পর্যন্ত ফরয এর পূনরাবৃত্তি হবে না”।

 

গোটা জীবনে একবার হজ্ব আদায় করা বিষয়ে সহীহ মুসলিম এর এই হাদিসখানাও প্রমাণ বহন করে যে, হুজুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ইরশাদ করেন-

أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ فَحُجُّوا. فَقَالَ رَجُلٌ أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ

অর্থাৎ “হে লোকেরা ! তোমাদের উপর হজ্বকে ফরয করা হয়েছে; সুতরাং তোমরা হজ্ব পালন কর। এক ব্যক্তি আরয করলেন- হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ! আমাদের উপর কি প্রতি বছর হজ্ব ফরয? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা চুপ থাকলেন; এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি তিন তিনবার এই প্রশ্নটির পূনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ইরশাদ করলেন যে, যদি তোমার এই প্রশ্নের জবাবে আমি ‘হ্যা’ বলতাম, তখন প্রতি বছর তোমার উপর হজ্ব পালন ফরয হয়ে যেত; যে বিষয়ে কিনা তুমি সক্ষমতা রাখো না”। [সহিহ মুসলিম, হাদিসঃ৩৩২১]

 

পরিশেষে আল্লাহ তায়ালার দরবারে এটাই প্রার্থনা যে, তিনি যেন আমাদেরকেও হজ্ব এবং যিয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারা করার তাওফিক দান করেন। আমিন, বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন।

Check Also

কোরবানীর জরুরী মাসায়েল

আল্লামা মুহাম্মদ সিরাজুম্মুনীর শোয়াইব পবিত্র ঈদুল আজহাকে সাধারণতঃ কোরবানীর ঈদ বলা হয়। আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *