সাম্প্রতিক আপডেটঃ
Home > ঈমান ও আক্বিদা > “র্শিক ও বিদ’আতের মূলতত্ত্ব”

“র্শিক ও বিদ’আতের মূলতত্ত্ব”

আল্লামা শাইখ তারেক আনোয়ার মিসবাহী,ভারত।

অনুবাদঃ মুহাম্মদ মহিউদ্দীন।

আজকাল যে সকল এলাকাসমূহে তাবলীগী জামায়াত প্রবেশ করছে,কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেস্থানে র্শিক ও বিদ’আত নামক শব্দাবলী প্রতিধ্বনিত হওয়া শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাবলীগী জামায়াতের মহাগুরু ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদী র্শিক এর সংখ্যাকে প্রশস্ত করে দিয়েছে। অসংখ্য মুবাহ বস্তুসমূহ এমনকি অসংখ্য মুস্তাহাবকে (আমলসমূকে সে) র্শিকের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছে। হিন্দুস্থান (ভারত)এর মধ্যে ইসমাঈল দেহলভী নজদী’র কিতাবুত্ তাওহীদ কে তাকভিয়াতুল ঈমান নামে উর্দূ ভাষায় অনুবাদ করে এবং (সে বইতে) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর প্রাচীনতম আমল ও রীতিসমূহকে র্শিক ও বিদ’আত নামে আখ্যায়িত করে । আল্লামা শায়খ আব্দুল হাকীম খান আখতার শাহ্জাহানপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাকভিয়াতুল ঈমান হতে ৮০ টি র্শিকের একটি তালিকা করেন; যেগুলো (কিনা) র্শিক নয়। কিন্তু ইসমাঈল দেহলভী সেগুলোকে র্শিক (হিসেবে) লিখেছে। বিস্তারিত তথ্য প্রদত্তঃ [১]

 

  • র্শিক ও তাওহীদের পরিচয় ও ব্যাখ্যা নিম্নে প্রদত্ত হলঃ-

সদরুশ্ শরিয়্যাহ হযরত আল্লামা আমজাদ আলী আ’জমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “র্শিকের অর্থ হচ্ছে গায়রে খোদা(যে খোদা নয়) কে ওয়াজিবুল উযুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক)অথবা মুস্তাহিকে ইবাদত (ইবাদতের উপযুক্ত) বলে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ উলুহিয়্যাত(আল্লাহত্ব) এর মাঝে অপরকে শরীক (অংশীদার) করা এবং এটা কুফরের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম প্রকারের (কুফুরী)”।[২]

 

  • ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন,

واما الاشراك فوضع المعبودیة فی ‏غیر اللہ تعالی ولا یجوز ان یکون غیرہ معبودا اصلا-

অর্থাৎ, আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতিতকে (অপরকে) মা’বুদ (উপাস্য) স্বীকার করাই র্শিক । এবং এটা কখনোই সম্ভব নয় যে,আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতিত কোন মা’বুদ হতে পারে![৩]

  • আল্লামা সা’দ উদ্দীন তফতাযানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন,

الاشراك ھو اثبات الشریك فی الالوھیة بمعنی وجوب الوجود کما للمجوس او بمعنی استحقاق العبادۃ کما لعبدۃ الاصنام –

অর্থাৎ, উলুহিয়্যাত (আল্লাহত্ব) এর মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালার শরীক (অংশীদার) সাব্যস্ত করাই র্শিক। ওজুবে উজুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক) অর্থে, যেমন কিনা মজুসী (অগ্নিপূজক) দের বিশ্বাস অথবা ইবাদতের উপযুক্ত হওয়ার অর্থে যেমন কিনা মূর্তিপূজকদের বিশ্বাস।[৪]

অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা এর উলুহিয়্যাতে কাউকে শরীক (অংশীদার) করার দু’টি পন্থা রয়েছে। প্রথমটি হলো এই যে,আল্লাহ্ তায়ালা ছাড়াও অন্য কাউকে ওয়াজিবুল ওজুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক) স্বীকার করা হয়। যেমনিভাবে মজুসী জাতি। (তারা) দুই খোদায় বিশ্বাসী। (মজুসীরা) উত্তম বস্তুর সৃষ্টিকারীকে “ইয়াজদান” এবং মন্দ বস্তুর সৃষ্টিকারীকে “অহরমন্” বলে। ফলে, কওমে মজুসীদের আক্বীদায় দুটি ওয়াজিবুল উজুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক) এবং দুটি কদীম (চিরন্তন) হয়ে গেল।

আর র্শিকের দ্বিতীয় পন্থাটি এই যে,আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতিত অন্য কাউকে মাবুদ (উপাস্য) হিসেবে মেনে নেয়া, যেমন কিনা মূর্তিপূজকরা মূর্তিসমূহকে (তাদের) মাবুদ হিসেবে স্থির করেছে।

  • আল্লামা আব্দুল হাকীম সিয়ালকোটি রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন,

الصواب ما فی شرح المقاصد ان حقیقة التوحید عدم اعتقاد الشریك فی الالوھیة ای فی وجوب الوجود و خواصھا من تدبیر العالم وخلق الاجسام واستحقاق العبادۃ –

অর্থাৎ, ঐ কথাটিই যথার্থ যা শরহে মাকাসিদের মধ্যে আছে যে,তাওহীদের হাক্বীকত এই যে, ওজুবে উযুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক) এবং তাঁর বৈশিষ্টাবলী যেমন জগতসমূহের ব্যবস্থাপনা, (মানব)দেহের সৃষ্টিকরণ এবং ইবাদতের উপযুক্ত হওয়ার মধ্যে শরীক করার ধারণা পোষণ না করা।[৫]

অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতিরেকে কাউকে ওয়াজিবুল উযুদ (যার অস্তিত্ব অত্যাবশ্যক) বা জগতসমূহের ব্যবস্থাপক বা দেহের সৃষ্টিকারী এবং উপাস্য মনে না করা। মোদ্দাকথা আল্লাহ্ তায়ালার জাত এবং সিফাতের মধ্যে কাউকে রব তায়ালা’র শরীক (অংশীদার) মনে না করাই তাওহীদ। আর (এর মধ্যে) কাউকে শরীক মনে করাই র্শিক।

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদী’র কিতাবুত তাওহীদ মক্কা মুকাররমা এর উলামায়ে কিরামের সামনে পাঠ করা হয়। ঐ কিতাবে নজদী গায়রে র্শিক (যা র্শিক নয়) কে র্শিক লিখেছে।মক্কা মুকাররমার আলেমগণ তা শুনে বললেন,

هذا تشريع جديد مخالف لما جاء به النبى صلى الله عليه وسلم وفهمه الصحابة والتابعون وتبعهم وصار مذهب اهل السنة – فانهم صرحوا فى كتب العقائد- ان الشرك هو اثبات الشريك فى الالوهية اما بمعنى وجوب الوجود كالمجوس او بمعنى استحقاق العبادة کعبدۃ الاصنام – فمدار الشرك وركنه هو اعتقاد تعدد الاله كما ان التوحيد اعتقاد وحدة الاله –

অথাৎ, এটা তো নতুন শরীয়ত প্রবর্তনের নামান্তর। এবং তা ঐ শরীয়ত এর  বিপরীত যা হুজুর সাইয়্যেদে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা(আমাদের কাছে) নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। এবং সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন এবং তবয়ে তাবেয়ীনগণ যা কিছু বোধগম্য করেছেন এবং যেটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদা হয়ে গেছে (নজদীর মন্তব্য ঐ আসলাফে কিরামের মাযহাবের বিপরীত)। কেননা ,উলামায়ে কিরাম আক্বায়েদের কিতাব সমূহে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন যে র্শিক; উলুহিয়্যাতের (আল্লাহত্বের) মাঝে শরীক (অংশীদার) সাব্যস্ত করাকে বলে। অথবা তা ওযুবে উযুদ এর অর্থে যেমন কিনা মজুসীদের (আক্বিদা বা বিশ্বাস)। অথবা তা ইবাদাতে হক্বদার হওয়ার অর্থে যেমন কিনা মূর্তি পূজারীদের (আক্বিদা বা বিশ্বাস)। সুতরাং র্শিকের ভিত্তি এবং তার স্তম্ভ (হল) সংখ্যাধিক্য মা’বুদের প্রতি বিশ্বাস করা দ্বারা । যেমনিভাবে তাওহীদ (হল) এক মা’বুদকে উপাস্য মনে করা।[৬]

বিদআতের হাক্বীকত

শাফেয়ী মাজহাবের অন্যতম অগ্রগণ্য ফকীহ,ইমাম আবু জাকারিয়্যাহ মুহিউদ্দীন নূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত-৬৭৬ হিজরী) নবীজীর হাদীস ”من سن فى الاسلام سنة” এর ব্যাখ্যায় বিদ’আত সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। সর্বপ্রথমে হাদীস শরীফটি দেখা যাক এবং তারপর ব্যাখ্যাটি দেখা হবে।

  • হাদীস শরীফ

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من سن فى الاسلام سنة حسنة فله اجرها واجرمن عمل بها بعده من غير ان ينقص من اجورهم شئ ومن سن فى الاسلام سنة سيئة کان عليه وزرها ووزر من عمل بها بعده من غير ان ينقص من اوزارهم شئ-

অর্থাৎ, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে কোন ভাল রীতি চালু করল,তাঁর জন্যে উহার (ভাল রীতির) প্রতিদান (সাওয়াব) রয়েছে এবং তাদেরও সাওয়াব, যারা কিনা তার পরে তাতে আমল করেছে। অথচ তাঁর (প্রবর্তনকারীর) সাওয়াব থেকে সামান্যতমও কমবে না। এবং যে ইসলাম ধর্মে কোন খারাপ রীতি-রেওয়াজ প্রবর্তন করল। তার (প্রবর্তনকারীর) উপর সেটার গুনাহ বর্তাবে। এবং তাদের গুনাহও যারা ঐ রীতির উপর আমল করেছে। (আর তা হবে) তাদের গুনাহ হতে সামান্য কমানো ছাড়াই।[৭]

অত্র হাদিসে পাকের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষদের জন্য আদেশ এসেছে যে, (যদি) কোন মুসলমান কোন যুগের মধ্যে কোন ভাল কাজ চালু করে, তাহলে সে সাওয়াবের হক্বদার। এবং যদি কেউ মন্দ কাজের সূচনা করে,তাহলে সে গোনাহ্গার হবে।এই হাদীসের মধ্যে বিদ’আতে হাসানাহ্ (উত্তম বিদ’আত) ও বিদ’আতে সাইয়্যে’আহ্ (মন্দ বিদ’আত) দুই ধরনের বিদ’আত উল্লেখ রয়েছে।

  • ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন,

فيه الحث على الابتداء بالخيرات وسن السنن الحسنات والتحذير من اختراع الا باطيل المستقبحات-

অর্থাৎ, উপরোল্লিখিত হাদীস শরীফে ভাল কাজের সূচনা এবং উত্তম রীতি-রেওয়াজ চালু করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং ভ্রান্ত ও অনিষ্ট রীতি-রেওয়াজ চালু করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।৮

 

ইমাম নববী উল্লিখিত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন,

وفى الحديث تخصيص قوله صلى الله عليه وسلم – ( كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة ) وان المراد به المحدثات الباطلة والبدع المذمومة –

অর্থাৎ, উপরোল্লিখিত হাদীস -এ হুজুর সরকারে দো’আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর ফরমানে মুবারক كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة (প্রত্যেক নতুন বস্তুই বিদ’আত এবং প্রত্যেক বিদ’আত গোমরাহী) এর ব্যাখ্যা হল যে, অত্র হাদীসের মধ্যে বিদ’আত থেকে উদ্দেশ্য নব্য ভ্রান্ত বিষয়াদি এবং মন্দ বিদ’আত।[৯]

সার সংক্ষেপ এই যে, ওই সকল বিষয়াবলী যা নবীর যুগে ছিল না কিন্তু শরীয়তের মাপকাঠি অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ,তবে (সেক্ষেত্রে) তার বৈধতার ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। যেমন ট্রেনযোগে ভ্রমণ করা,মেশিন দ্বারা কাপড় সেলাই করা। (অথচ) আগেকার যুগে উট এবং অন্যান্য প্রাণীর উপর (মানুষ) আরোহন করতো এবং হাত দ্বারা কাপড় সেলাই করতো।

বিদ’আত এর প্রকারভেদ

হযরত আল্লামা ইবনে হাজার হাইতামী মক্কী শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত-৯৭৩ হিজরী) বর্ণনা করেন,

قال العزبن عبد السلام رحمه الله تعالى- البدعة فعل ما لم يعهد فى عهد النبى صلى الله عليه وسلم- وتنقسم الى خمسة احكام يعنى الوجوب والندب الخ وطريق معرفة ذلك – ان تعرض البدعة على قواعد الشرع- فاى حكم دخلت فيه، فهى منه – فمن البدع الواجبة تعلم النحو الذى يفهم به القران والسنة ومن البدع االمحرمة مذهب نحو القدرية ومن البدع المندوبة احداث نحو المدارس والاجتماع لصلوة التراويح ومن البدع المباحة المصافحة بعد الصلوة ومن البدع المكروهة زخرفة االمساجد والمصاحف اى بغير الذهب والا فهى محرمة- وفى الحديث – كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار- وهو محمول على المحرمة لا غير-

অর্থাৎ, হযরত আল্লামা ইজ্জ বিন আব্দুস সালাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করেন, বিদ’আত এমন একটি কাজ যার প্রচলন হুজুর পাক সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর যুগে ছিল না।এবং এটা (বিদ’আত) কে পাঁচটি বিধানে বিভক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ওয়াজিব-মুস্তাহাব এবং অন্যান্য। এটা জানার উপায় এই যে, বিদ’আত (নতুন উদ্ভাবন) কে ইসলামী শরীয়তের মূলনীতিতে পেশ করা হবে। ফলে ঐ বিদ’আত (নতুন উদ্ভাবন) যেই বিধানে পড়বে তবে তা উহার অন্তর্ভুক্ত হবে।

১। ওয়াজিব বিদ’আতঃ

এর মধ্যে(অন্যতম) রয়েছে ইলমে নাহু শিক্ষা করা। যার মাধ্যমে কুরআন মাজীদ ও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর হাদীস শরীফকে বুঝা যায়।

২। হারাম বিদ’আতঃ

এর মধ্যে রয়েছে ক্বদরিয়্যাহ এবং অন্যান্য সম্প্রদায় (বাতিল ফির্কা) সমূহ।

৩। মুস্তাহাব বিদ’আতঃ

এর মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করা এবং তারাবীহ নামাজের জন্য একত্রিত হওয়া।

৪।  মুবাহ (বৈধ) বিদ’আতঃ

এর মধ্যে রয়েছে নামাজের পর মুসাফাহা (করমর্দন) করা।

৫। মাকরুহ বিদ’আতঃ

এর মধ্যে রয়েছে মসজিদ এবং পবিত্র কুরআন মাজিদের সৌন্দর্যকরণ। অর্থাৎ স্বর্ণ ব্যতিরেকে অন্যান্য বস্তু দ্বারা (মসজিদ এবং কুরআন মাজিদের) সৌন্দর্যকরণ। (অন্যদিকে) স্বর্ণ দ্বারা এহেন সৌন্দর্যকরণ করাও হারাম (এগুলো হল বিদ’আতের পাঁচটি প্রকার।)

আর হাদীস শরীফের মধ্যে রয়েছে যে,প্রত্যেক বিদ’আত হল গোমরাহী (ভ্রষ্টতা) এবং প্রত্যেক গোমরাহী-ই জাহান্নামে যাওয়ার মাধ্যম। তাহলে এই হাদীস শুধুমাত্র হারাম বিদ’আতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (অর্থাৎ এই হাদীস শরীফে শুধুমাত্র হারাম বিদ’আতের কথা উল্লেখ হয়েছে, নতুবা অসংখ্য নব্য সৃষ্টি দ্বীনের জন্য আবশ্যকীয়।)[১০]

  • ইমাম নববীও লিখেছেন যে, বিদ’আত পাঁচ প্রকার,

البدعة خمسة اقسام- واجبة ومندوبة ومحرمة ومكروهة ومباحة- فمن الواجبة نظم ادلة المتكلمين للرد على الملاحدة والمبتدعين وشبه ذلك ومن المندوبة تصنيف كتب العلم وبناء المدارس والربط وغير ذلك ومن المباح التبسط فى الوان الاطعمة وغير ذلك والحرام والمكروه ظاهران-

অর্থাৎ, বিদ’আতের প্রকার হল পাঁচটি, যথাঃ ১। ওয়াজিব, ২। মুস্তাহাব, ৩। হারাম, ৪। মাকরুহ, ৫। মুবাহ । সুতরাং, ওয়াজিব বিদ’আত সমূহের মধ্যে- বদ মাজহাবী,বিদ’আতী ও তাদের সমমনা বাতিল ফির্কাসমূহের খন্ডনে উলামায়ে মুতাকাল্লিমীন (আক্বায়েদের ইমামগণ) দের প্রমাণাদি বিন্যস্ত করা অন্যতম। আর মুস্তাহাব বিদ’আতের মধ্যে হল ইলমী কিতাব প্রণয়ন,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং মুসাফিরখানা তৈরী করা। জায়েজ (বৈধ) বিদ’আতের মধ্যে অন্যতম হল উন্নতমানের হরেক রকমের খানা-পিনা (যেমন- পোলাউ,কাচ্চি ইত্যাদি)। আর মাকরুহ এবং হারাম  বিদ’আত তো স্পষ্ট (দৃশ্যমান)।[১১]

হযরত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ১০১৪ হিজরী) নবীজীর হাদীস শরীফ ” واياكم ومحدثات الامور” এর নিচে লিখেন,

اى احذروا عن الامور التى احدثت على خلاف اصل من اصول الدين واتقوا احدثها –

অর্থাৎ, ঐসকল বিষয় হতে বেঁচে থাকো যা দ্বীনের উসূলের মধ্য থেকে কোন একটি উসূল এর সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে গিয়েছে। এবং এমন বিষয়ের উদ্ভাবন হতে বেঁচে থাকো।[১২]

মোদ্দাকথা হল এই যে,(দ্বীনের মধ্যে) কোন নতুন বিষয় যখন ইসলামী শরীয়তের উসূলের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে ঐ বিদ’আত (নতুন উদ্ভাবন) টি নিষিদ্ধ এবং বিদ’আতে সাইয়্যে’আহ্। আর যদি তা(ইসলামী) শরীয়তের উসূল এর মোতাবেক হয়, তবে তা স্পষ্টত বৈধ। এই (বিষয়টা) শুধুমাত্র (বাতিলদের) জ্ঞানের হতবুদ্ধি। এই বিষয়টাকে শুধুশুধুই জটিল করা হয়েছে। এবং এটা শুধুমাত্রই (তাদের) অজ্ঞতার কারনে হয়েছে।

বর্তমান যুগের ওহাবীরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর সমস্ত আমল সমূহের নাম র্শিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। (মূলত) র্শিক ও বিদ’আত এমন দুটি শব্দ যে, এই দুই শব্দের উপর তাদের মাজহাবের ভিত্তি রাখা হয়েছে। যদি এই দুইটি শব্দ ওহাবীদের মাজহাব থেকে মাইনাস করে দেওয়া হয়, তাহলে ওহাবী মাজহাব বিলীন হয়ে যাবে। রাব্বুল আলামিন সকল মুসলমানদেরকে বাতিল ফির্কাদের (ভ্রান্ত) আক্বিদা থেকে হেফাজতে রাখুন। আমিন! বিহুরমাতি সাইয়্যেদিল মুরসালিন।

 

  • তথ্যসূত্রঃ-

১। বাতিল ফির্কে,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৩৫৩, প্রকাশক-রেযা একাডেমী মুম্বাই।

২। বাহারে শরীয়ত,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৫৪।

৩। তাফসীরে কবীর,খন্ড-২৫,পৃষ্ঠা-১২৮।

৪। শরহুল আকায়েদেন নসফী,পৃষ্ঠা-৭৭।

৫। হাশিয়ায়ে মোল্লা আব্দুল হাকীম আলা শরহেদ্ দাওয়ানী লিল আক্বায়িদিল আদীদাহ,পৃষ্ঠা- ১০।

৬। সাইফুল জব্বার,পৃষ্ঠা-২৬,ইস্তাম্বুল,তুরস্ক।

৭। সহীহ মুসলিম শরীফ,খন্ড- ১,পৃষ্ঠা- ৩২৭।

৮। শরহে নববী আলা মুসলিম,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৩২৭।

৯। শরহে নববী আলা মুসলিম,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৩২৭।

১০। ফতোয়ায়ে হাদীসিয়্যাহ,পৃষ্ঠা-১০৯,দারুল ফিকার, বৈরুত,লেবানন।

১১। শরহে নববী আলা মুসলিম, খন্ড-১,পৃষ্ঠা-২৮৫।

১২। মিরকাতুল মাফাতিহ্,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৩৭৪।

 

[প্রবন্ধ উৎসঃ-  উর্দূ মাসিক পত্রিকা “মাহ্‌নামা আলা হযরত” (মার্চ-এপ্রিল) সংখ্যা ২০১৩, বেরেলী শরীফ,ইউ.পি ভারত হতে প্রকাশিত।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *