সাম্প্রতিক আপডেটঃ

ঈদ ও জুম’আ একই দিনে হলে জুম’আর নামাজ এর বিধান

প্রশ্নঃ যদি ঈদ ও জুম’আ একই দিনে হয়, তবে জুম’আর নামাজ পড়তে হবে কিনা?

উত্তরঃ শুক্রবার ঈদ হলে উভয় নামাজ(জুম’আ ও ঈদের নামায) যথারীতি নিজ নিজ সময়ে আদায় করা হবে। এতে করে রহমত ও বরকত দ্বিগুণ হবে।

 

১. হযরত আবু সালিহ আয্‌-জিয়াত কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে:

إِنَّ النَّبِی صلی الله عليه وآله وسلم اجْتَمَعَ فِی زَمَانَه يَوْمٍ جُمْعَةِ وَ يَوْمَ فطر، فَقَالَ :  إِنَّ هَذَا الْيَوْمَ يُوْم، قد اجْتَمَعَ فِيْه عَيْدَانِ، فَمَنْ أَحَبَّ فَلْيَنْقَلِبْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَنْتَظِرَ فَلْيَنْتَظِرْ.

হুজুর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জুম’আ ও ঈদুল ফিতর একইদিনে হয়েছিল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন- নিশ্চয়ই আজ একদিনে দু’টি ঈদ একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যারা বাড়িতে ফিরে যেতে চায়, তারা যেতে পারবে এবং যারা অপেক্ষা করতে চায়, তারা অপেক্ষা করবে।” (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, 3: 304, হাদিস সংখ্যা: 5729)

 

২. হযরত আবদুর রহমান বিন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র আযাদকৃত গোলাম হযরত আবু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে- আমি সাইয়্যেদুনা উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট উপস্থিত ছিলাম। সেদিন ঈদুল ফিতর ও শুক্রবার একত্রিত হয়েছিল। সাইয়্যেদুনা উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু আনহু ঈদের নামাজের পর সেখানে সমবেত লোকদের সামনে খুতবা দিয়েছিলেন এবং অতঃপর বলেছিলেন- এই দু’টি ঈদ একদিনে একত্রিত হয়েছে।

فمن کان من أهل العوالی فأحب أن يمکث حتی يشهد الجمعة فليفعل، ومن أحب أن ينصرف فقد أذنا له.

“সুতরাং যে শহরতলির বাসিন্দা এবং জুম’আর নামাজে যোগ দিতে চায় তার অবশ্যই যোগদান করা উচিত এবং যদি কেউ দেশে ফিরে যেতে চায় তাকেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,  3: 305, হাদিস সংখ্যা: 5732)

 

৩. হযরত নুমান বিন বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে:

کان رسول اﷲ صلی الله عليه وآله وسلم يقرأ فی الجمعة والعيد بِه :  ﴿سَبِّحِ اسْمَ رَبِّکَ الْأَعْلٰی﴾ وَ ﴿هَلْ أَتَاکَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ﴾ فَإِذَا اجْتَمَع الجمعة وَ العيدان فی يوم قرأ بهما.

 

 

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম’আ ও ঈদের নামাজে সূরা আ’লা ও সূরা গাশিয়াহ তিলাওয়াত করতেন। যখন জুমুআ এবং ঈদ একদিনে একত্রিত হত, তিনি এই দুটি সূরা তেলাওয়াত করতেন।(অর্থাৎ, নবীজী এই দিনে জুম’আ ও ঈদের নামাজ উভয়টিই আদায় করেছেন)

(আস-সুনানুল কুবরা, 1: 547, হাদিস নং- 1775)

 

৪.  ইমাম মুহাম্মদ “আল জামেউস সগির” কিতাবে একই দিনে দু’টি ঈদ একত্রিত হওয়া সম্পর্কে বলেছেন:

يشهدهما جميعًا ولا يترک واحدا منهما، والأولي منهما سنة والأخری فريضة.

(ঈদ ও জুম’আ) উভয়টিতেই উপস্থিত হবে। দুটির একটিকেও পরিত্যাগ করা যাবে না। কেননা ঈদের নামায সুন্নাত(ওয়াজিব) এবং  জুম’আ ফরয।

(ইবনে নুজাইম, আল বাহরুর রায়েক্ব, 2 :  70)

 

৫. আল্লামা শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন:

عيدان اجتمعا فی يوم واحد، فالاول سنة والثاني فريضة، ولا يترک واحد منهما.

যখন দুটি ঈদ (ঈদ ও শুক্রবার) একদিনে একত্রিত হয়, প্রথমটি(ঈদের নামাজ)হল সুন্নাত(ওয়াজিব) এবং দ্বিতীয়টি(জুম’আর নামাজ) ফরয । দু’টির একটিকেও ছেড়ে দেওয়া যাবে না। (ইবনে আবিদীন, রদ্দুল-মুহতার, 2: 166)

শেষ কথা-

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার দিনে অনুষ্ঠিত ঈদ এবং জুম’আর নামাজ উভয়টিই আদায় করেছেন। আমাদের জন্য এই দলিলই যথেষ্ট। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারলাম যে, ঈদের নামাজ পড়ার পরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মদীনার বাহির থেকে আগত লোকদেরকে ঐচ্ছিক ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, যে চাইবে-সে মদীনা মুনাওয়ারায় থাকবে এবং জুম’আর নামাজও আদায় করবে। আর যার বাড়ি শহর থেকে এতটা দূরে যে,  সেখানে জুম’আ ও ঈদের নামাজ আদায় হয় না, তারা চাইলে জুম’আর আগেই নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাবে। সুতরাং, যারা শহরে অবস্থান করবে, তাদের উপর জুম’আর নামাজ ফরজ হবে। আর যারা জুম’আর ওয়াক্ত হওয়ার আগেই গ্রামে চলে যাবে, তাদের উপর জুম’আর নামাজ ফরয হবে না। কারণ জুম’আর নামাজ ফরয হওয়ার জন্য “শহরে অবস্থান করার” শর্ত প্রযোজ্য।

(আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন)

 

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন গুফিরা লাহু

প্রভাষক- আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ

কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা।

Check Also

নামাযে ইকামতের সময় কখন দাঁড়াবেন?

ইকামতের সময় মুসল্লিগণ কখন দাঁড়াবেন তার শরঈ বিধান সুস্পষ্ট । বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে সুন্নাতী পদ্ধতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *