সাম্প্রতিক আপডেটঃ
Home > আদব ও শিষ্টাচার > তলোয়ারের জোরে কখনো ধর্মপ্রচার হয়নি

তলোয়ারের জোরে কখনো ধর্মপ্রচার হয়নি

কাজী সাইফুদ্দীন হোসাইন

লেখাটি নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় ইসলামিক লেখক ও অনুবাদক মুহাম্মদ কাজী সাইফুদ্দীন সাহেবের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।খুবই যথার্থ একটি বিষয়ের প্রমাণ হয়েছে লেখটিতে।- সম্পাদক (রওশন দলীল ডট কম)

ফিলিস্তিনে বর্তমান সংকট এবং ইসরাইলী বর্বরতা সম্পর্কে ফেসবুক বন্ধুরা অনেক পোস্ট প্রকাশ করেছেন এবং ট্যাগ-ও করেছেন। সকলকে ধন্যবাদ জানাই হালনাগাদ তথ্য দেয়ার জন্যে। আমি সব সময় বিশ্বাস করেছি, মুসলমান সমাজ পূর্ববর্তী যুগের মতো তাসাউফ তথা সূফীবাদী না হলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জাতি-গোষ্ঠীগুলোর কাছে ধর্মের বাণী পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হবে। ইসলামের স্বর্ণযুগে সূফী-দরবেশবৃন্দ-ই বিভিন্ন দেশে ধর্মপ্রচার করেছিলেন। এটি তলোয়ারের জোরে হয় নি। তবে যারাই এঁদের বিরুদ্ধে তলোয়ার প্রয়োগ করতে চেয়েছে, খোদায়ী তথা আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবলে তা প্রতিহত হয়েছে। আজকের মুসলমান শাসকদের, বিশেষ করে আরবীয় রাজা-বাদশাহদের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ খেলাফত শাসনামলে এবং তৎপরবর্তী সুলতান গাযী সালাহউদ্দীন আইয়ুবী ও অন্যান্যদের আমলে সকল শাসক-ই সুন্নী আকীদা-বিশ্বাস পোষণকারী ও সূফীবাদী ছিলেন। ফলে আরবে বহিঃশত্রুর আক্রমণ হলেও তা রুখে দেয়া হয়েছিল। সর্বত্র খোদায়ী রহমত ও বরকত ছিল। বিশেষ করে সুলতান গাযী সালাহউদ্দীন সুন্নী মতাদর্শকে তাঁর ধর্মীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

ক্রুসেডাররা ১০৯৯ খৃষ্টাব্দে জেরুসালেম দখল করে নেয়। তারা মুসলিম জনপদ রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিতে থাকে। ঠিক এমনই একটি সময়ে মুসলমানবৃন্দ কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা আমি প্রথমে জানতে পারি ক্রুসেড-বিষয়ক বি,বি,সি, ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত ২০০১ সালের সেপটেম্বর মাসে ১ ঘন্টার একটি সিরিয়াল রিপোর্টে। আগ্রাসন আরম্ভ হওয়ার কিছুকাল পরে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী বাগদাদের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমু’আ আদায়ের জন্যে শাসকবর্গ সহ মুসলমানগণ সমবেত হয়েছিলেন। মাসটি ছিল এ রকমই এক রোযার মাহিনা (মাস)। অকস্মাৎ এক দরবেশ মসজিদের মাঝ বরাবর এসে বসে গেলেন। তাঁর হাতে যে কৌটা ছিল তা খুলে ভেতরের খাবার তিনি খাওয়া আরম্ভ করলেন। এতে বর্তমানকালের মতোই অনেক মুসল্লী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে কর্কশ কণ্ঠে তিরস্কার করতে লাগলেন। ওখানে ’আমীর-রাহবার‘রাও ছিলেন। দরবেশ পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘আমি রোযার সময়ে মসজিদের অভ্যন্তরে খেয়েছি বলে রোযার এবং মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে তোমরা তৎপর হয়েছ, অথচ এগুলোর চেয়েও পবিত্র মুসলমানদের রক্তে যে আরবভূমি রঞ্জিত হচ্ছে, এ সম্পর্কে তোমরা একেবারেই নিশ্চুপ। কী আশ্চর্য তোমাদের আচরণ!

দরবেশের এই কথায় কর্ণধারদের টনক নড়লো। অতঃপর তাঁরা এর প্রতিকার করার সংকল্পবদ্ধ হলেন। এর পরের ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। শুধু এতোটুকু জানিয়ে রাখি, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী তাঁর সৈন্যদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা যেন খৃষ্টান জনপদে আক্রমণকারী খৃষ্টানদের মতো গণহত্যা না চালান। অন্যথায় মৃত্যদণ্ড দেয়া হবে। আরও উল্লেখ্য যে, ক্রুসেডাররা অস্ত্র সম্বরণ করার সাথে সাথে তাদেরকে নিরাপদে বাড়ি ফেরার অনুমতিও দেয়া হয়েছিল। এই ধরনের মহানুভবতা সূফীবাদীরা ছাড়া আর কে দেখাতে পারে ?

Check Also

ইসলামে শিশুর অধিকার

আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আযহারী [বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন ওয়াস সালাতু ওয়াস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *